Research Banner

অন্তর্দর্শন’ আনিসুল হক বরুণের একক ‘আলোক-চিত্রকলা’ প্রদর্শনী

আগামী বুধবার ২৪ এপ্রিল থেকে চারুকলার জয়নুল গ্যালারীতে শুরু হচ্ছে শিল্পী ও নাট্যকর্মী কাজী আনিসুল হক বরুণের একক ‘আলোক-চিত্রকলা’ বা ‘Photo Arts’ প্রদর্শনী। আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ঘিরে বস্তু এবং বৃক্ষরাজির মধ্যে যেসব আকার এবং আকৃতিগত পরিবর্তন, যা স্বতঃস্ফূর্ত গতিতে চলেছে, সেইসব পরিবর্তনের কোনো না কোনো এক ক্ষুদ্রতম অংশের কোনো এক মুহূর্তের ছবি ক্যামেরার ফ্রেমে আটকে রাখার প্রয়াস তুলে ধরা হয়েছে ‘অন্তর্দর্শন’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে। স্থিরচিত্রের ফ্রেমে প্রকৃতির আঁকা চিত্রকলাকে দেখানোর প্রত্যাশায় এই ভিন্নধর্মী আয়োজন।

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, তা তো বটেই তবে চোখ মেলবার পরও অনেক কথা, অনেক অনুধাবন থাকে। দেখা তো এক প্রকার দর্শন। মনের গভীরে চিন্তা বা কল্পনার বহিঃপ্রকাশ।

আনিসুল হক বরুণের চোখ থিয়েটারের চোখ। তাঁর কাজ আপাতঃদৃষ্টিতে দৃশ্যমান হলেও, সূত্র কল্পনার। উনি যা দেখেছেন, আর উনার দেখাতে আমরা যা দেখেছি তা সচরাচর চোখে পড়ার ব্যাপার না। অতি যত্নবান এবং তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী হলে সে সব দৃশ্য চোখে পড়ে। তাঁর দেখাতে আমরা দেখি এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে ফেলি “বাহ তাই তো!”

বরুণ তো বলেছেন ছোটবেলার প্রকৃতি দর্শন, দিগন্তবিস্তৃত মাঠ, আকাশে গতিশীল মেঘ, দিগন্ত ভেদ করা নদী, এই দৃশ্যগুলো আবার তাঁর কাছে প্রকাশিত হচ্ছে একেবারে অন্য পটে, স্টেইজে। অন্য এক থিয়েটারে, গাছের গোঁড়ায় বা পুরনো এক বাড়ির দেয়ালে।

এই যে এক আঙ্গিক থেকে অন্য আঙ্গিকে বিচরণ বা অনুপ্রবেশ, এটা বরুণের কর্মযজ্ঞেও বিদ্যমান। ছবি প্রতিচ্ছবি করতে গিয়ে বরুণ অনেকগুলো সীমানা লঙ্ঘন করেছেন। থিয়েটার প্রেক্ষাপট থেকে এসে ছবি তোলার নাম করে তিনই একরকম সিউডো পেইন্টিং তৈরি করেছেন। যার নাম তিনই দিয়েছেন ফোটো আর্ট। না আছে তুলি, না আছে কালি বা ক্যানভাস। তবু ছবি চিত্রকলাসম। এই যে একরকম নতুনের অভিযান এটা সীমা লঙ্ঘন করেই সম্ভব।

শেষমেশ তাঁর অতি-ছবিগুলোতে থিয়েটারের আদি উদ্দেশ্যটা আছে। মানে, বিশেষভাবে দেখা যা হয়ে উঠে দর্শন। থিয়েটারের নাটকীয়তা প্রত্যক্ষ ব্যাপার। তার পিছনে ও পরে রয়েছে দর্শন। থিয়েটার শব্দটা এসেছে আদি গ্রিক শব্দ theoria থেকে, যেখান থেকে আবার theory। মানে গভীরভাবে, প্রতিক্ষেপকভাবে দেখা। দৃষ্টি থেকে দৃষ্টিভঙ্গি।

এতসব চিন্তা করে বরুণ ক্যামেরা হাতে নিয়েছিলেন কিনা জানি না, তবুও কথাগুলো এসে যায়। নতুন কল্পনার প্রান্ত উন্মোচিত হয়।

আনিসুল হক বরুনের কাজ দেখে প্রথমেই ল্যান্ডস্কেপের কথা বলতে হয়। বরুণের বেশির ভাগ ছবি গাছের গুড়ির। কাছ থেকে নেয়া ছবিতে তিনি নতুন এক ল্যান্ডস্কেপ আবিষ্কার করেছেন। যেখানে তিনি আবার করে দেখেছেন গাছের সারি, মাঠ-প্রাঙ্গণ, নদীর বাঁক বা টিলারাজি।

ল্যান্ডস্কেপ শব্দটা সহজে বাংলায় ভাষান্তর করা যায় না। ল্যান্ডস্কেপ প্রকৃতিও নয়। নৈস্বর্গও নয়। ল্যান্ডস্কেপ হল স্থল-ভূমির আকার বা গঠন। Google Earth এর মতন উপর থেকে বা পাখির চোখে পৃথিবী যেমন দেখা যায়। একেবারে ভিন্ন একটা স্টেইজে বরুণ আমাদের এটা উপহার দিয়েছেন।

এই যে গাছ বা দেয়ালের খুব কাছে গিয়ে, গাছ বা দেয়াল ভুলে ভিন্ন রকম এই বিশাল জগত আবিষ্কার করা, ঐটা সম্ভব আংশিক পট তৈরি করে। বরুণ যখন একটা গাছের প্রতি তাঁর ক্যামেরা তাক করেছেন তখন তিনি আর গাছ দেখছেন না, তিনি দেখছেন গাছের বাঁকল বা পর্দা, খোসা বা খোলস। সেগুলোর texture বা রং। এগুলোর আকস্মিক আয়োজনে যে এক অন্য রুপ বা আকার তৈরি হচ্ছে তা বরুণ লক্ষ্য করেছেন। আর তখন আবিষ্কার করেছেন আপতিক ল্যান্ডস্কেপ। তবে মিনিয়েচার স্কেলে। এই যে স্কেলের তারতম্য বরুণের কাজে এটা একটা বড় ব্যাপার।

বরুণের ছবির তাৎপর্য আংশিকতায়, বরুণ যে বস্তুর ছবি তুলেছেন তা তিনি একেবারে কাছে থেকে তুলেছেন। পুরোটা দেখান নি কেননা বরুণ বস্তুনির্ভর নন। তাঁর গাছের ছবি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটা গাছের ছবি। গাছবস্তু প্রায় অবান্তর। বড় ব্যাপার হচ্ছে যে প্রতি বস্তুর পৃষ্ঠে যে আকস্মিক রং, texture আবার আবির্ভূত হচ্ছে তাকে ধারণ করা। বরুণ তা করেছেন zoom-in করে।

এই যে যুম-ইন করে বস্তুর কাছে গিয়ে এক প্রকার ল্যান্ডস্কেপ আবিষ্কার করা, এতে মনে হচ্ছে বরুণ আমাদেরকে এক নতুন ভৌগলিক জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বলা যায় মাইক্রোজিওগ্রাফি। পৃথিবীর আলো-বাতাস-জলের ঘাত প্রতিঘাতে সর্বক্ষণ রূপান্তরিত বস্তুর একেবারে ঘনিষ্টে গিয়ে যে ভৌগলিক প্রান্তরের সন্ধান পাওয়া যায় বরুণ সযত্নে তাঁর চোখ ও কল্পনা দিয়ে আমাদের কাছে হাজির করেছেন। একপ্রকার নাটকীয় ভাবে।

– কাজী খালিদ আশরাফ


Anisul Haque Barun has distinguished himself as a theatre performer, designer, choreographer and director, besides directing several short films which have been enthusiastically received by the audience. In recent years he has also become widely known for his photographs which stand out for their artistic and creative quality and the messages they convey. He focuses mostly on nature, minutely observing how seasonal changes leave their mark on trees and meadows, flowers and creepers. What Barun’s photographs tell the audience is simple: observe nature minutely and discover a world of spectacle. He uses an ordinary SLR digital camera with usual attachment of lenses, but comes up with breathtaking close shots of the intricate designs and patterns that often suggest, in an abstract way, a resemblance with human figures and faces or other familiar objects.

In his latest solo exhibition, Barun has concentrated on the barks of trees where the simple cracks and fissures reveal a profusion of designs. In course of the day, with the light changing, these areas take different appearances. Barun also focuses on the different formations of moss on brick walls which also challenge him with meaningful images. He sometimes waits for hours for the right shade of light for giving the desired exposure. He has patience and dedication – two important qualities every photographer should possess. 
What I like most about this exhibition is the photographs’ closeness to paintings. In formal arrangement, colours, tonalities and texture, all the photographs can double as perfectly executed paintings which stand out for their artistic appeal. I am sure the audience will come up with their own readings of the photographs and discover their hidden meanings.

– Syed Manzoorul Islam 
University of Liberal Arts Bangladesh


বুধবার ২৪ এপ্রিল বিকাল ৫.৩০ টায় প্রদর্শনী উদ্বোধনে অতিথি হিসেবে থাকবেন ডঃ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, নাসির আলী মামুন এবং নিসার হোসেন।

বিস্তারিতঃ
‘অন্তর্দর্শন’
আনিসুল হক বরুণের একক ‘আলোক-চিত্রকলা’ প্রদর্শনী
উদ্বোধনঃ ২৪ এপ্রিল বিকাল ৫.৩০ টা
জয়নুল গ্যালারী ২, চারুকলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রদর্শনী আগামী ৭ মে ২০১৯ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে।